বিলাল হোসেন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনে অপরাধ দমন করতে হলে দালাল চক্র ভাঙতে হবে। দালাল চক্রের কারণে প্রতিনিয়ত সুন্দরবনে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এ সকল দালালেরা সুন্দরবনের বনদস্যু সহ সকল প্রকার সুন্দরবনের অপরাধ কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে থাকে। বনবিভাগের সহযোগী হিসেবে কাজ করায় বেশিরভাগ জেলে বাওয়ালিরা তাদের কথার বাইরে যেতে পারে না ৷ বনবিভাগের ঘন কুয়াশার আড়ালে ছলচাতুরী নজরের বাইরে ৷ এভাবেই চলে আসছে দীর্ঘকাল ধরে ৷ অসহায় নির্যাতিত জেলেরা এখন এমন ধরনের অত্যাচার মানিয়ে নিয়েছে ৷ যদিও প্রতিবাদ করলেও তার কোন সুফল পাইনি ৷ বরং বন্ধ হয়েছে তাদের সুন্দরবনে মাছ কাঁকড়া ধরা ৷
বন বিভাগ বলির পাঠা হিসেবে ব্যবহার করে থাকে এ সকল দালালদের। দালালদের সহযোগিতায় সুন্দরবনের হরিণ মারা, ছোট কাঁকড়া ধরা, অভয়ারণ্য প্রবেশ করা, শামুক নিধন করা, সুন্দরবনের গাছ কাটা, বনদস্যুর সহযোগিতা করা সবকিছুই অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে।
বিশেষ সূত্রে অনুসন্ধানে জানাগেছে যে, রেঞ্জে প্রায় ৫০ জন দালাল দ্বারা পরিচালনা হয়ে আসছে বনবিভাগের পাশ-পার্মিট ব্যবস্থা ৷ কৈখালী স্টেশনের আওতায় মিরগাংয়ের শহিদুল ও কৈখালীর বুলবুল, কদমতলা স্টেশনের আওতায় রহিম, রশিদ, আকবর, আমজাত (বড়), আব্দুল (মাষ্টার), হাফিজুর, রফিকুল (ছোট) বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন আওতায় ইসমাইল সানা, শহিদুল মোল্ল্যা,হাসান,জালাল মোল্ল্যা, সাইদ,শহিদুল মোড়ল, হোসেন ও কোবাদক স্টেশনের আওতায় মাছুম ঢালী, লুৎফর শেখ ও লুৎফর মোল্ল্যা সহ আরো ৩ ডজন দালাল পাশ-পার্মিট তৈরি করার কাজ করে থাকে ৷
সুন্দরবন প্রবেশে বৈধভাবে মাছ/কাঁকড়া আহরণে নেওয়া হয় অধিক টাকা ৷ আর এইসব টাকা গ্রহণ করেন স্থানীয় এই সব দালালরা ৷ অনেক জেলেরা আছেন, তাদের কোন বিএলসি নেই ৷ আবার অনেক জেলেরা পেশা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে গেছেন ৷ আর তারা এই দালালদের মাধ্যমে বিএলসি ভাড়া দিয়ে থাকেন ৷ এতে করে অপেশাদার জেলেদের দু’শ টাকা দিয়ে বনবিভাগের পাশ খরচ বাদে এই সব দালাল হাতিয়ে নিচ্ছে জেলে পিছু ১৮শ টাকা করে ৷ বিএলসি ও পাশ মিলে লাখ লাখ টাকা জেলেদের সুবিধা দেওয়ার নাম করে প্রতি গনে হাতিয়ে নিচ্ছেন৷
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে জানান, আমাদের রুটিরুজি এই সুন্দরবনের উপরে ৷ যদি প্রকাশ হয়, তবে আমাদের সুন্দরবনে যেতে বাঁধাগ্রস্থ করবে ৷ যতই প্রতিবাদ করি, ফলে আমাদের ক্ষতি৷ তাই মুখ বুজে সব সহ্য করি ৷
তবে বিভিন্ন দালালদের সাথে কথা বলে জানাগেছে মাথাপিছু ৫০ থেকে ১শ টাকা নিয়ে থাকেন তারা ৷
তবে অভিযোগ পেয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সহকারী বন সংরক্ষক ফজলুল হক ৷ তিনি বলেন, এটা বন্ধ করতে সচেতনতার দরকার ৷ জেলেরা অফিসে আসতে চাই না ৷ তারা মনে করে ঘরে বসে পাস কাটতে পারে ৷
নিজের বিএলসি ছাড়া ভাড়া করে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে কি না জানতে চাইলে, জড়িত কন্ঠে বলেন, পারে তো না কিন্তু সুযোগ দিয়ে থাকি ৷
