নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সুন্দরবনে দীর্ঘদিন দাপিয়ে বেড়ানো ডন বাহিনীর অবসান ঘটতে চলেছে। অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে যুক্ত ডন বাহিনীর ১২জন সদস্য ১৩টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গতকাল (৮ই সেপ্টেম্বর) রাতে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের দোবেকী ফরেষ্ট অফিস সংলগ্ন কনঞ্চির খাল এলাকা থেকে তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে হেফাজতে নিয়েছে বাংলাদেশ কোষ্টগার্ড।
ডন বাহিনীর প্রধান রহমত আলী ওরফে নানাভাইয়ের নেতৃত্বে একে ১২ জন বনদস্যু অনানুষ্ঠানিক ভাবে কোষ্টগার্ডের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে কোষ্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। জমা দেওয়া অস্ত্রের মধ্যে দেশি-বিদেশি ও পুলিশের লুট হওয়া আছে বলে জানিয়েছেন সুত্রটি।
জমা দেয়া অস্ত্রের মধ্যে নাইন শুটার,এইট শুটার,ফাইভ শুটার, এফ এক্স রাইফেল,সাইড অফ বন্দুক, থ্রি নট থ্রি রাইফেল, নাইন এম এম,শর্টগান, টুটুআর রাইফেলসহ মোট ১৩টি অস্ত্র।
আত্মসমর্পণকৃত দস্যুদের দোবেকী কোষ্টগার্ড অফিসে রাখা হয়েছে। রাতে কোষ্টগার্ড পশ্চিম জোনের মোংলা অফিসে নেওয়া হবে। আগামীকাল যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে বাগেরহাট কোর্টে সোপর্দ করা হবে বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, সরকার পতনের কিছুদিন পর অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে শান্ত সুন্দরবন অশান্ত হয়ে ওঠে। একে একে সুন্দরবনের দস্যুতার সাথে যুক্ত হয় ২০টির বেশি দস্যুদল। অশান্ত সুন্দরবনের শান্তি ফেরাতে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে সুন্দরবন অঞ্চলে জলদস্যুতা দমন বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বর্তমান সরকারের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছিলেন "সুন্দরবনে দস্যুমুক্ত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার"।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৬) ও বাংলাদেশ কোষ্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী,আনারুল বাহিনী,আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনী,আফতাব বাহিনী,মিজান বাহিনী,ছোট সুমন বাহিনী ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর মোট ৫৯জন জলদস্যু। তাদের কাছ থেকে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৪১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এর আগেও কোষ্টগার্ডের বেশ কয়েকটি সফল অভিযান আছে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আগামী এক দুমাসের মধ্যে দস্যু মুক্ত হতে পারে সুন্দরবন।